ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর সিনিয়র কমান্ডার নিহত

  • বার্তা কক্ষ
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

 

লেবাননের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর টায়ারে ইসরাইলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর এক সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৩ জুলাই) টায়ারের আল-হোশ এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হামলা চালায় বলে জানিয়েছে লেবাননের একটি সামরিক সূত্র।

সূত্র জানায়, একটি ইসরাইলি ড্রোন আকাশ থেকে গাড়িটির পর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে গাড়িটি পুড়ে যায়, সেইসাথে গাড়ির চালক ও যাত্রী নিহত হন।

ওই গাড়ির চালক ছিলেন হিজবুল্লাহর একটি সামরিক ইউনিটের কমান্ডার, যার ডাকনাম হজ আবু নিমাহ। দক্ষিণ লেবাননের হাদ্দাথা গ্রামের বাসিন্দা নিমাহ দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত এলাকার পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় সেক্টরের সীমান্তরেখায় কাজ করতেন।

এ ঘটনায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি।

সূত্র আরো জানায়, দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও শহরে তিনটি বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এসময় সীমান্তের পাঁচটি গ্রাম ও শহরে অন্তত ৩০টি শেল নিক্ষেপ করে তারা।

২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা করার সময় থেকেই হামলা শুরু করেছে হিজবুল্লাহ। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গুলি বিনিময় চলছে। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সাথে লড়াই সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা একটি পূর্ণ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হিজবুল্লাহ হামাসের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তাদের সাথে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানও তাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে তারাও ইসরালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে। সর্বোপরি, এটি একটি বড় পর্যায়ের আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

সম্প্রতি হিজবুল্লাহর মোকাবিলায় ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে সৈন্য জড়ো করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এ ব্যাপারে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেন, আমাদের কাছে নতুন এমন অস্ত্র ও গোয়েন্দা সক্ষমতা রয়েছে, যা ইসরাইলের গভীরে আরও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার সক্ষমতা রাখে।

জবাবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারাও হিজবুল্লাহকে তাদের পূর্ণ সক্ষমতা দেখায়নি। যুদ্ধ শুরু হলে লেবাননও আরেকটি গাজায় পরিণত হবে।

তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেই কেবল ইসরাইলে হামলা বন্ধ করা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন করতে পারবে, হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর সিনিয়র কমান্ডার নিহত

আপডেট সময় : ০৩:০০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪

 

লেবাননের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর টায়ারে ইসরাইলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর এক সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৩ জুলাই) টায়ারের আল-হোশ এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হামলা চালায় বলে জানিয়েছে লেবাননের একটি সামরিক সূত্র।

সূত্র জানায়, একটি ইসরাইলি ড্রোন আকাশ থেকে গাড়িটির পর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে গাড়িটি পুড়ে যায়, সেইসাথে গাড়ির চালক ও যাত্রী নিহত হন।

ওই গাড়ির চালক ছিলেন হিজবুল্লাহর একটি সামরিক ইউনিটের কমান্ডার, যার ডাকনাম হজ আবু নিমাহ। দক্ষিণ লেবাননের হাদ্দাথা গ্রামের বাসিন্দা নিমাহ দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত এলাকার পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় সেক্টরের সীমান্তরেখায় কাজ করতেন।

এ ঘটনায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি।

সূত্র আরো জানায়, দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও শহরে তিনটি বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এসময় সীমান্তের পাঁচটি গ্রাম ও শহরে অন্তত ৩০টি শেল নিক্ষেপ করে তারা।

২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা করার সময় থেকেই হামলা শুরু করেছে হিজবুল্লাহ। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গুলি বিনিময় চলছে। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সাথে লড়াই সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা একটি পূর্ণ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হিজবুল্লাহ হামাসের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তাদের সাথে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানও তাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে তারাও ইসরালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে। সর্বোপরি, এটি একটি বড় পর্যায়ের আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

সম্প্রতি হিজবুল্লাহর মোকাবিলায় ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে সৈন্য জড়ো করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এ ব্যাপারে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেন, আমাদের কাছে নতুন এমন অস্ত্র ও গোয়েন্দা সক্ষমতা রয়েছে, যা ইসরাইলের গভীরে আরও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার সক্ষমতা রাখে।

জবাবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারাও হিজবুল্লাহকে তাদের পূর্ণ সক্ষমতা দেখায়নি। যুদ্ধ শুরু হলে লেবাননও আরেকটি গাজায় পরিণত হবে।

তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেই কেবল ইসরাইলে হামলা বন্ধ করা হবে।