ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতে বাবার সৎসঙ্গ সভায় প্রাণ গেল ১০৭ জনের

  • বার্তা কক্ষ
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

 

 

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ১০৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে হাথরাসের পদদলনের এই ঘটনায় প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পরপর হাথরাস পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাজেশ কুমার সিং বলেছেন, হাতরাস জেলার একটি গ্রামে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলনের ওই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলনের এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, হাথরাস জেলার সিকান্দ্রা রাও এলাকার রাতি ভানপুর গ্রামে বিশেষ তাঁবু টানিয়ে সৎসঙ্গ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ধর্মীয় এক প্রচারক অনুসারীদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তাঁবুতে ঘেরা থাকায় অনুষ্ঠানস্থলে দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে সৎসঙ্গ সভায় আসা লোকজনের মাঝে অস্বস্তি তৈরি হয়। অনুষ্ঠানটির সময় সেখানে প্রচণ্ড গরম ছিল।

উত্তরপ্রদেশের আলীগড় রেঞ্জ পুলিশের মহাপরিদর্শক শালভ মাথুর বলেন, হাথরাসের রাতি ভানপুর গ্রামে ধর্মীয় প্রচারক ভোলে বাবার সৎসঙ্গ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ইতাহ ও হাথরাস জেলার সীমান্তের ওই অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হওয়ার জন্য ভক্তদের সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেঁচে ফেরা এক ব্যক্তি বলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সাথে সাথে লোকজন সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছিলেন। সেই সময়ই এই পদদলনের ঘটনা ঘটেছে।

পদদলনে আহত অপর একজন বলেন, ‌‘‘দুর্ঘটনাস্থলে ভক্তদের প্রচুর ভিড় ছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার কোনও উপায় ছিল না। লোকজন তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে একে অপরের ওপর পড়ে যায় এবং পদদলনের শিকার হয়। আমি বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পথে মোটরসাইকেল পার্ক করে রাখায় আমার বাইরে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়লেও অন্যরা মারা যান।’’

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করে অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘আমরা সৎসঙ্গের জন্য এসেছি। সেখানে প্রচুর ভিড় ছিল। সৎসঙ্গ শেষ হওয়ার পরপরই আমরা বাইরে চলে যেতে শুরু করি। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ অনেক সরু ছিল। আমরা যখন মাঠের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করি, তখন হঠাৎ করে হৈ চৈ শুরু হয়। সেই সময় আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না। অনেক মানুষ মারা গেছেন।’’

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘সৎসঙ্গ শেষ হওয়ার সাথে সাথে সবাই বেরিয়ে আসতে শুরু করে। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরের একটি ড্রেন ঘেঁষে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একের পর এক মানুষ ড্রেনে পড়তে থাকেন। এতে কিছু মানুষ পিষ্ট হয়েছেন।’’

তবে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এদিকে, পদদলনে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এই ঘটনা তদন্তে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে ত্রাণ কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

 

 

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন করতে পারবে, হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

ভারতে বাবার সৎসঙ্গ সভায় প্রাণ গেল ১০৭ জনের

আপডেট সময় : ০৩:২১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

 

 

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ১০৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে হাথরাসের পদদলনের এই ঘটনায় প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পরপর হাথরাস পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাজেশ কুমার সিং বলেছেন, হাতরাস জেলার একটি গ্রামে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলনের ওই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলনের এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, হাথরাস জেলার সিকান্দ্রা রাও এলাকার রাতি ভানপুর গ্রামে বিশেষ তাঁবু টানিয়ে সৎসঙ্গ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ধর্মীয় এক প্রচারক অনুসারীদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তাঁবুতে ঘেরা থাকায় অনুষ্ঠানস্থলে দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে সৎসঙ্গ সভায় আসা লোকজনের মাঝে অস্বস্তি তৈরি হয়। অনুষ্ঠানটির সময় সেখানে প্রচণ্ড গরম ছিল।

উত্তরপ্রদেশের আলীগড় রেঞ্জ পুলিশের মহাপরিদর্শক শালভ মাথুর বলেন, হাথরাসের রাতি ভানপুর গ্রামে ধর্মীয় প্রচারক ভোলে বাবার সৎসঙ্গ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ইতাহ ও হাথরাস জেলার সীমান্তের ওই অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হওয়ার জন্য ভক্তদের সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেঁচে ফেরা এক ব্যক্তি বলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সাথে সাথে লোকজন সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছিলেন। সেই সময়ই এই পদদলনের ঘটনা ঘটেছে।

পদদলনে আহত অপর একজন বলেন, ‌‘‘দুর্ঘটনাস্থলে ভক্তদের প্রচুর ভিড় ছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার কোনও উপায় ছিল না। লোকজন তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে একে অপরের ওপর পড়ে যায় এবং পদদলনের শিকার হয়। আমি বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পথে মোটরসাইকেল পার্ক করে রাখায় আমার বাইরে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়লেও অন্যরা মারা যান।’’

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করে অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘আমরা সৎসঙ্গের জন্য এসেছি। সেখানে প্রচুর ভিড় ছিল। সৎসঙ্গ শেষ হওয়ার পরপরই আমরা বাইরে চলে যেতে শুরু করি। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ অনেক সরু ছিল। আমরা যখন মাঠের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করি, তখন হঠাৎ করে হৈ চৈ শুরু হয়। সেই সময় আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না। অনেক মানুষ মারা গেছেন।’’

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘সৎসঙ্গ শেষ হওয়ার সাথে সাথে সবাই বেরিয়ে আসতে শুরু করে। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরের একটি ড্রেন ঘেঁষে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একের পর এক মানুষ ড্রেনে পড়তে থাকেন। এতে কিছু মানুষ পিষ্ট হয়েছেন।’’

তবে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এদিকে, পদদলনে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এই ঘটনা তদন্তে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে ত্রাণ কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।