ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ক্যারিয়ারের শুরুতেই কেন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এআর রহমান?

  • আলোর কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

এ আর রহমান

এআর রহমানের নাম জানেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। ভারতীয় সঙ্গীতকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্ব মানচিত্রে, তার ঝুলিতে রয়েছে অস্কারসহ নামীদামী অনেক পুরস্কার। আজ সাফল্যের শিখরে থাকলেও বহু চড়াই উতরাই পার করতে হয়েছে আল্লারাখা রহমানকে। সঙ্গীত পরিচালক মানেই নেপথ্যের শিল্পী নয়, সুরকার হয়েও যে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হয়ে ওঠা যায়- তা দেখিয়ে দিয়েছেন এ আর রহমান। তবে সঙ্গীতের পাশাপাশি তার ইসলাম গ্রহণ আজও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জন্মসূত্রে এআর রহমানের নাম দিলীপ কুমার। ১৯৬৭ সালের ৬ জানুয়ারি জন্ম হয় তার। দিলীপ থেকে তিনি রহমান হয়ে উঠেছিলেন বাবা তামিল সঙ্গীত পরিচালক আরকে শেখরের মৃত্যুর কয়েক বছর পরে। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারান রহমান, এরপর গোটা পরিবারের দায়িত্ব এসে পরে ছোট্ট দিলীপের কাঁধে। মা কস্তুরী দেবী (এখন করিমা বেগম) এবং তিন বোনের দায়িত্ব ছিল দিলীপের ওপর। বাবার মৃত্যুর পর অর্থকষ্ট ও সমাজিক উপেক্ষা তীব্র যন্ত্রণা দিয়েছিল দিলীপকে। ১১ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন অর্কেস্ট্রা দলের সাথে কি-বোর্ড বাজাতে শুরু করেন আজকের ‘দ্য মোৎ​সার্ট অব মাদ্রাজ’। এরপর যোগ দেন ইলিয়া রাজার গানের দলে। আস্তে আস্তে শেখেন গিটারসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজানো। বাবার পদচিহ্ন অনুসরণ করুক ছেলে বরাবরই চেয়েছিলেন মা।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই রহমান এবং তার পুরো পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। দিলীপ হয়ে যান আল্লারাখা রহমান। ১৯৯২ সালে রহমানের প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ রোজা মুক্তির দিন কয়েক আগেই ইসলামে প্রবেশ করেন সঙ্গীত পরিচালক। রহমানের বন্ধু ত্রিলোক নায়ার সঙ্গীত পরিচালকের জীবনীতে কৃষ্ণা ত্রিলোককে জানান, শেষ মুহূর্তে ছবির ক্রেডিটে দিলীপের বদলে ছেলের নতুন নাম রহমান রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। তার সাফ কথা ছিল, ‘হয় ওর নতুন নাম থাকবে, না হলে নাম রাখারই দরকার নেই’।

নিজে ধর্ম পাল্টে ছিলেন খুব অল্প বয়সে, তবে জোর করে কারো ওপর ধর্ম কেন কোনো বিষয়ই চাপিয়ে দেয়া যায় না- তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন রহমান। তিনি হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছিলেন, ‘তুমি কিছুই চাপিয়ে দিতে পারো না। তুমি তোমার সন্তানদের বলতে পারো না ইতিহাস পড় না, কারণ এটা বোরিং, বলতে পারো না অর্থনীতি বা বিজ্ঞান নিয়ে পড়। এটা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভরশীল।’

রহমান জানিয়েছিলেন, অনেকেই তাকে প্রশ্ন করে ইসলাম গ্রহণ করলেই কি সফল হওয়া যায়? রহমান সেই প্রশ্নের কোনো জবাব দেন না। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এটা ইসলাম গ্রহণ করার বিষয় নয়, এটা হলো- পরমাত্মাকে খুঁজে পাওয়া- তোমার মনকে সেটা ছুঁয়ে যাচ্ছে কিনা সেটা যাচাই করা। আধ্যাত্মিক গুরুরা, সুফি সাধকরা আমাকে, আমার মাকে যা শিখিয়েছেন সেটা অনন্য। প্রতিটি বিশ্বাসেই কিছু না কিছু অনন্যতা রয়েছে, এটা আমরা বেছে নিয়েছি এবং এটার প্রতি আমি আজীবন আস্থাশীল।’

রহমান যোগ করেন, ‘প্রার্থনা করাটা সবসময়ই খুব লাভজনক। এটা আমাকে অনেক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করেছে। প্রার্থনার মাঝে আমি ভাবি, আমি নামাজ আদা- করব তাই আমি ভুল কাজ করতে পারি না। অন্য ধর্মের মানুষরাও তাই করে থাকেন, এবং শান্তিতে সেই কাজটা হয়। আমার মনে হয় এটা সত্যি জরুরি!’ সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা

ক্যারিয়ারের শুরুতেই কেন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এআর রহমান?

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪

এআর রহমানের নাম জানেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। ভারতীয় সঙ্গীতকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্ব মানচিত্রে, তার ঝুলিতে রয়েছে অস্কারসহ নামীদামী অনেক পুরস্কার। আজ সাফল্যের শিখরে থাকলেও বহু চড়াই উতরাই পার করতে হয়েছে আল্লারাখা রহমানকে। সঙ্গীত পরিচালক মানেই নেপথ্যের শিল্পী নয়, সুরকার হয়েও যে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হয়ে ওঠা যায়- তা দেখিয়ে দিয়েছেন এ আর রহমান। তবে সঙ্গীতের পাশাপাশি তার ইসলাম গ্রহণ আজও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জন্মসূত্রে এআর রহমানের নাম দিলীপ কুমার। ১৯৬৭ সালের ৬ জানুয়ারি জন্ম হয় তার। দিলীপ থেকে তিনি রহমান হয়ে উঠেছিলেন বাবা তামিল সঙ্গীত পরিচালক আরকে শেখরের মৃত্যুর কয়েক বছর পরে। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারান রহমান, এরপর গোটা পরিবারের দায়িত্ব এসে পরে ছোট্ট দিলীপের কাঁধে। মা কস্তুরী দেবী (এখন করিমা বেগম) এবং তিন বোনের দায়িত্ব ছিল দিলীপের ওপর। বাবার মৃত্যুর পর অর্থকষ্ট ও সমাজিক উপেক্ষা তীব্র যন্ত্রণা দিয়েছিল দিলীপকে। ১১ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন অর্কেস্ট্রা দলের সাথে কি-বোর্ড বাজাতে শুরু করেন আজকের ‘দ্য মোৎ​সার্ট অব মাদ্রাজ’। এরপর যোগ দেন ইলিয়া রাজার গানের দলে। আস্তে আস্তে শেখেন গিটারসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজানো। বাবার পদচিহ্ন অনুসরণ করুক ছেলে বরাবরই চেয়েছিলেন মা।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই রহমান এবং তার পুরো পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। দিলীপ হয়ে যান আল্লারাখা রহমান। ১৯৯২ সালে রহমানের প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ রোজা মুক্তির দিন কয়েক আগেই ইসলামে প্রবেশ করেন সঙ্গীত পরিচালক। রহমানের বন্ধু ত্রিলোক নায়ার সঙ্গীত পরিচালকের জীবনীতে কৃষ্ণা ত্রিলোককে জানান, শেষ মুহূর্তে ছবির ক্রেডিটে দিলীপের বদলে ছেলের নতুন নাম রহমান রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। তার সাফ কথা ছিল, ‘হয় ওর নতুন নাম থাকবে, না হলে নাম রাখারই দরকার নেই’।

নিজে ধর্ম পাল্টে ছিলেন খুব অল্প বয়সে, তবে জোর করে কারো ওপর ধর্ম কেন কোনো বিষয়ই চাপিয়ে দেয়া যায় না- তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন রহমান। তিনি হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছিলেন, ‘তুমি কিছুই চাপিয়ে দিতে পারো না। তুমি তোমার সন্তানদের বলতে পারো না ইতিহাস পড় না, কারণ এটা বোরিং, বলতে পারো না অর্থনীতি বা বিজ্ঞান নিয়ে পড়। এটা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভরশীল।’

রহমান জানিয়েছিলেন, অনেকেই তাকে প্রশ্ন করে ইসলাম গ্রহণ করলেই কি সফল হওয়া যায়? রহমান সেই প্রশ্নের কোনো জবাব দেন না। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এটা ইসলাম গ্রহণ করার বিষয় নয়, এটা হলো- পরমাত্মাকে খুঁজে পাওয়া- তোমার মনকে সেটা ছুঁয়ে যাচ্ছে কিনা সেটা যাচাই করা। আধ্যাত্মিক গুরুরা, সুফি সাধকরা আমাকে, আমার মাকে যা শিখিয়েছেন সেটা অনন্য। প্রতিটি বিশ্বাসেই কিছু না কিছু অনন্যতা রয়েছে, এটা আমরা বেছে নিয়েছি এবং এটার প্রতি আমি আজীবন আস্থাশীল।’

রহমান যোগ করেন, ‘প্রার্থনা করাটা সবসময়ই খুব লাভজনক। এটা আমাকে অনেক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করেছে। প্রার্থনার মাঝে আমি ভাবি, আমি নামাজ আদা- করব তাই আমি ভুল কাজ করতে পারি না। অন্য ধর্মের মানুষরাও তাই করে থাকেন, এবং শান্তিতে সেই কাজটা হয়। আমার মনে হয় এটা সত্যি জরুরি!’ সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস